Home
Writers Corner
Photo Gallery
Archive
About Us
Search
Contact Us
Time
Bangladesh Dhaka
12:21:16 PM
Australia Sydney
5:21:16 PM
Weather
Yahoo! Weather - Sydney Regional Office, AS
Current Conditions:
Click for weather forecast
Currency Rate
Prayer Time
Fajr 4:41
Sunrise 6:14
Zuhr 1:09
Asr 4:53
Maghrib 8:02
Ishaa 9:31
Reader Number
Bangladeshi Newspaper
Daily Prothom Alo
Daily Ittefaq
Daily Jaijaidin
Daily Janakantha
Daily Inqilab
Australian Newspaper
Daily Telegraph
The Sydney Morning Herald
The Australian
NEWS.COM.AU
The Mercury
Australian Local Newspaper
Basbhumi
Sydneybashi Bangla
POBD
Karnafuli
Bangla-Sydney.COM
High Comission Websites
Australian High Comission
Bangladesh High Commission
British High Comission
Indian High Comission
Canadian High Comission
Bangladeshi Bank
Bangladesh Bank
Agrani Bank
Sonali Bank
Pubali Bank
Rupali Bank
Entertainment
Dharabahik Natok
Bangla Natok
Amar Natok
BdEntertain
Musicbd
Social Sites
Face Book
HI 5
Twitter
E Gate BD
Gmail
Useful Sites
Youtube
Metacafe-Movie
Brother Soft
Movies Ahashare.com
Internet Movies Databse
Sports
Fifa
International Cricket Council
Bangladesh Cricket
Cricket Australia
English Premier League
Bangladeshi TV Channels
BTV
BTV World
ATN Bangla
Channel 1
Rtv
Encyclopedia & Dictionary
Wikipedia
Britannica
Banglapedia
Encarta
Oxford Dictionary
Bangladeshi University
Dhaka University
Jahangirnagar University
Jagannath University
Chittagong University
Rajshahi University
World News
BBC
CNN
AFP
AP
BSS
Mobile Operator of Bangladesh & Australia
Grameen Phone
Banglalink
Aktel
Warid Telecom
Teletalk
স্থানীয় সংবাদ
সাভারে ভবনধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৮
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৫৮ জনের মরদেহ তালিকাভুক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১২৪ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভবনটিতে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকাজ চলছে। সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ ফরিদ উদ্দিন আজ সকালে প্রথম আলো ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে নবম তলা ভবনটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় সহস্রাধিক লোক আহত হয়েছেন। রানা প্লাজার তৃতীয় থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত ছিল পোশাক কারখানা। আর নিচের দুটি তলায় মার্কেট, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। হরতালের কারণে মার্কেট বন্ধ ছিল। আর ভবনে ফাটল ধরায় ব্যাংকটি আগের দিনই তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ধসে পড়া ভবনের তৃতীয় তলায় আগের দিনই ফাটল দেখা গিয়েছিল। এ জন্য পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা গতকাল কাজে যোগ দিতে চাননি। মালিকেরা কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেছেন বলে আহত শ্রমিকেরা দাবি করেছেন।
--------
মালিকের জন্য দায়মুক্তি জাতির জন্য শোক!
শান্তি: সাভারে যাঁরা মরেছেন, তাঁরা আমাদের কেউ নন। তাজরীনের ওরাও আমাদের কেউ নন। তাই তাঁদের লাশ গোনার দরকার কী? সচক্ষে শত মানুষের লাশ দেখার পরও জানার আগ্রহ নেই, উদ্ধারকাজ শেষে সংখ্যাটা কত দাঁড়াবে, তিন শ, পাঁচ শ, হাজার? যখন নিয়মিতভাবে শ্রমিক মারা যান, তখন কোনবার কতজন মারা গেলেন তার থেকে বড় সত্য, মৃত্যুই তাঁদের জন্যবরাদ্দ, জীবন কেবলআমাদের; যারা মধ্য থেকে উচ্চের দিকের মানুষ। বাংলাদেশে গরিব মানুষের মৃত্যু আর সংখ্যার বিষয় নয়, এটা এক গুণগত মাত্রা অর্জন করে ফেলেছে। তাঁদের হত্যার ধারাবাহিকতার যোগফল বেশুমার। যাঁরা মরে গেছেন, তাঁদের মরে যাওয়ারই কথা অনিরাপদ কারখানায়, নিষ্ঠুর পরিচালনায়, শ্রম নিংড়ে নেওয়া মজুরিপনায়, উপেক্ষার ব্যবস্থাপনায়। যাঁরা মরেননি, তাঁরা পরে মরবেন। যাঁরা বিছানায় পিঠ রেখে মরার সৌভাগ্য পাবেন, তাঁদের বেঁচে থাকা প্রাকৃতিক নিয়ম আর অসম্ভব প্রাণশক্তির কুদরত। জীবনের চেয়েমৃত্যুর শক্তি যেখানে বেপরোয়া, সেখানে মৃতরা কাঠামোগত গণহত্যার হিসাবহীন জনপুঞ্জ, জীবিতরা জিন্দা লাশ। লাখো জিন্দা লাশের মিছিল সাভারে উপচে পড়ছে। অধিকাংশ গ্রামীণ তরুণ-তরুণী এবং অধিকাংশই অপুষ্টিজাত খাটো খাটো মানুষ। এঁরা আর দেশের কর্তাশক্তি আর তাঁদের ভাইবেরাদর এক জাতি নয়, এক সমাজ নয়, এক শ্রেণী নয়। এখানে জাতির ভেতর জাত, দেশের ভেতর দ্যাশ, মানুষের মধ্যে না-মানুষ। তাঁরা এই নৈরাষ্ট্রের নৈনাগরিক। তাঁদের জন্য শোক ছাড়া আর কী-ই বা দেওয়ার আছে আমাদের? আমাদের জন্য বেঁচে থাকার শান্তি, তাঁদের জন্য শোক। প্রতীকী নয়, নিরঙ্কুশ, আদি ও অকৃত্রিম স্বজন হারানোর শোক। দুই বোন হারানো যুবক আওলাদ মাটিতে আছাড়ি-পিছাড়ি দিয়ে ডাকছেন, ও আল্লাহ, বোন দুইটারে মায়ের বুকে দিয়া যা, আমারে তুই নিয়া যা। ধামরাইয়ের আওলাদের বোনের নাম তো শিউলি আর সীমাই হবে। শিউলির বিয়ে হয়েছে দুই মাস আগে। এখনো স্বামীর বাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া হয়নি। দেখতে দেখতে বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলি। কার কে মারা গেছেন বা নিখোঁজ আছেন, জানতে ভুলে যাই। বলি, কার কয়জন? বগুড়ার রিজিয়া ডুকরে উঠে বলেন, আমার তিনজন: আজিজ, মনিকা, রেহানা। আজিজ তাঁর স্বামী, রেহানা বোনের মেয়ে, মনিকাও আত্মীয়। মামুন হাসপাতালে ঝোলানো তালিকায়খুঁজছেন চারজনকে: আতাউর, অরপুন, ফরহাদ ও সুজন। ভাতিজা, ভাগিনা, জামাই সম্পর্কের মানুষ তাঁরা। লিটন খুঁজছেন তাঁর ভাবি কল্পনাকে। হায়, কল্পনা! তাজরীনের নিহতের তালিকায় কয়েকজনকে পেয়েছিলাম, যাঁদের নাম কল্পনা। আটতলা রানা প্লাজার ছাদের পর ছাদ যেন পাউরুটির পর পাউরুটির টুকরার মতো সেঁটে আছে। তারই একটা ফোকর দিয়ে এক মধ্যবিত্ত চেহারার মানুষ চিৎকার করে ডাকছেন, রা-শে-দ, সা-দ্দা-ম, সা-মা-দ, ইক-বা-ল বলে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ইকবালের ফোনে অস্পষ্ট কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল। এখন আর কারও সাড়া নেই। রানা প্লাজার মালিকের নাম সোহেল রানা। তাঁর বাবা খালেক কলু নামে পরিচিত। ঘানির তেলের ব্যবসা ছিল তাঁর। জনশ্রুতি আছে, তাঁর পরিবারের মালিকানায় ধসে পড়া রানা প্লাজার মতো চার-পাঁচটি ভবন আছে। ধনী হওয়ার গতির সমান্তরালে রানা নেতাও হয়েছেন। এখন তিনি শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। কিন্তু শ্রমিকেরা তাঁকে নেতা মানতেন না, বলতেন মালিক। এই মালিক আগের দিন শ্রমিকদের বলেছিলেন, ফাটল-টাটল কিছু না। প্লাস্টার খসছে, বিল্ডিংয়ের কিছু হবে না। এই কিছু হবে না তিনি বলতে পেরেছেন কারণ, তিনি তাঁর দলীয় মুরোদ জানতেন। তা-ই প্রমাণ করলেন সাভারের সাংসদ মুরাদ জং। মুরাদ তাঁকে সশরীরে এসে উদ্ধার করেন। আহত-নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের রোষানলে পিষ্ট হওয়ার ভয় থেকে। কিছু হয়নি তাঁর, কিছুই হবে না তাঁর! কিছু হবে না সাভারের উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তার। তিনি বলেছিলেন, ভবনের ফাটল তেমন কিছু নয়। নারায়ণগঞ্জের প্যানটেক্স গার্মেন্টের মালিকের কিছু হয়নি। চট্টগ্রামে আগুনে অঙ্গার অজস্র শ্রমিকের মালিকেরও কিছু হয়নি। তাঁরা দেশের মালিক, আইনের মালিক, এমনকি অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন-মৃত্যুরও মালিক। রাষ্ট্র কেবল এই জীবন-মৃত্যুর মালিকদের ম্যানেজার। তাই মালিকদের কিছু হয় না। কিন্তু মানিকগঞ্জের মুল্লি বেগম ভাঙা হাত নিয়ে বোবা হয়ে যাবেন। যতই বলি, কতজন ছিলেন তখন, ততই তাঁর মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ বাড়তে থাকে। এই বোবা যন্ত্রণা আর ক্রোধের ভাষা উদ্ধার করার মতো অত্যাধুনিক যন্ত্র যদি পেতাম! যদি জানতে পারতাম, কত তীব্র ধিক্কার আর বিচারের ফরিয়াদ সেখানে গুমরাচ্ছে! যদি পারতাম, সেই যন্ত্রণার চিৎকার সরাসরি সম্প্রচার করে সারা দেশের মানুষকে শোনাতে! সাভার থেকে ফেরার পথে পানির জন্য থামি। দোকানের টেলিভিশনে দেখি, সংসদে সরকারের বিভিন্ন সফলতার বয়ান হচ্ছে। বয়ান যিনি দিচ্ছেন, আর যাঁরা শুনছেন, সবার মুখ হাসি হাসি। সব শান্তি আর হাসি তাঁদের মুখে যেন বর্ষিত, আর শ্রমিকদের জীবনের ওপর ধসে পড়ছে ভবন, পুড়ে যাচ্ছে দেহ। তাঁদের মুখে হাসি নেই। গত কয়েক মাসে আগুনে পুড়ে, ভবন ধসে শত শত শ্রমিক পুড়ে মরেছেন। তবু সাভারের রাস্তাজুড়ে লাখ লাখ মানুষ। না, মানুষ নন, শ্রমিক। লাখ লাখ শ্রমিক আর তাঁদের স্বজনেরা সাভারজুড়ে। তাঁরা রাস্তায়, তাঁরা রাস্তার পাশে, তাঁরা সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ফটকে। তাঁরা যে যা পারেন করছেন। কেউ মানুষকে পানি খাওয়াচ্ছেন। কেউ খাবার দিচ্ছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস ভর্তি করে ছাত্রছাত্রীরা এসেছেন রক্ত দিতে এনাম হাসপাতালে। এমনকি আশপাশের মাদ্রাসাছাত্ররাও দাঁড়িয়েছেন রক্তদানের সারিতে, সাহায্যের সারিতে। সাভারে দেখে এলাম, সমাজ যা পারে করছে, কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যর্থ। এবংএই রাষ্ট্রযন্ত্র এমনই এক যন্ত্র, যা বাঁচাতে পারে না, মৃত্যুর বন্দোবস্ত দিতে পারে, দিতে পারে চিরদায়মুক্তি। এমনকি সাভার এলাকায় বেসরকারি এনাম হাসাপাতাল ভিন্ন অন্য কোনো সরকারি হাসাপাতাল পর্যন্ত নেই। যেখানে প্রায়ই গণমৃত্যুহয়, সেখানে নেই উদ্ধারের দক্ষ বাহিনী। অথচ ঠিকই রয়েছেশিল্পাঞ্চল পুলিশ, রয়েছেআলিশান ক্লাব। উদ্ধারকাজে গতি নেই। যেন তারা জানে না কী করতে হবে। ভাঙা ভবনের ভেতর থেকে একটা টর্চ চেয়ে চিৎকার করে গেলেন একজন অনেকক্ষণ। সেই টর্চ পাওয়া গেল না। ঢাকা থেকে একদল দমকলকর্মী গিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু কী করতে হবে জানা নেই। এক কথায়, অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা আর বিশৃঙ্খলা। এক ভবন ধসলে যদি এই হয়, তাহলে ভূমিকম্প হলে কী করব আমরা? সাভারের লাখ লাখ শ্রমিকের মনের এক সুর: ভয়। নীলফামারীর আলমের মা ফোন করে বলেছেন, বাবা চলে আয়। আলমের আর কাজই করতে মন চায় না। জাহিদের কথা, জীবনটা তামা তামা হইল রে ভাই। তাঁরা যেখানে ফিরে যাচ্ছেন, সেই কারখানা কিংবা সেই বস্তি এখন ভয়ের আখড়া। আগুনে পুড়ে বা ধসে মরতে চান না তাঁরা কেউ। কিন্তু দিন যাবে ভয় কমবে; বাড়বে ক্ষুধার চিন্তা, টাকার চিন্তা। তাঁদের জীবন পেটে বাঁধা, পেটের টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা কাজ করে যাবেন মৃত্যুর কারখানায়। কিন্তু মালিকদের জীবন পেটে বাঁধা নয়, তাঁদের জীবন বাঁধা বিত্তবিলাসের খাসলতে। টাকা বানানোর নেশায় সেই খাসলত তাঁদের অমানুষ করে তুলবে। সাভারের সোহেল রানার মতো ছয়তলার ভিতের ওপর তাঁরা দশতলা ভবন বানাবেন। দোকান দেওয়ার উপযোগী ভবনে কারখানা বানিয়ে দু-তিন টন ওজনের অনেক মেশিন বসাবেন। ভবন আপনা-আপনি ধসে না। এসবের ওজনের ভারে, মালিকের মুনাফার ভারে, বিজিএমইএর ভয়াবহ স্বার্থপরতার ভারে, সরকারযন্ত্র আর রাজনীতির রাজা-রানিদের নির্দয়তার ভারে তাঁরা মরে যান। সাধারণ মানুষ কেবল বিপদ এলেই আহা-উহু প্রতিবাদ করবেন, তারপর ভুলে যাবেন। প্রতিকারে কঠোর হবেন না কেউই। চলতে থাকবে মৃত্যুর ম্যানেজারি। তাঁদের জন্য কেউ হরতাল দেবেন না, তাঁদের জীবন রক্ষার সফলতার বয়ান কেউ সংসদে গর্ব করে জানাবেন না। বরং হাসিমুখে জাতীয় শোক ঘোষণা করবেন। যাবতীয় শোক আর লজ্জা বহন করে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত হয়ে উড়বে বাংলার আকাশে। শোকের দায়, ব্যথার দায়, লজ্জার দায় কেবল পতাকার। বাকি সবার দায়মুক্তি দেওয়া হোক। পোশাকশিল্পে গণহত্যার জন্য দায়ী মালিকেরা আর তাঁদের সংগঠন বিজেএমইএ যে দায়মুক্তির ঐতিহ্য ভোগ করে আসছে, রানা প্লাজার মালিকদেরও সেই দায়মুক্তি প্রাপ্য। এক দেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না। কিন্তু আমাদের যাদের চোখের রেটিনায় যে মাংসপিণ্ডরূপ মানুষের ছবি, আমাদের কী হবে? তাজরীন থেকে ফেরার পর কয়েক দিন নাকে লেগে ছিল পোড়া মাংসের ঘ্রাণ। সাভার থেকে ফেরার পর টের পাচ্ছি মৃত্যুর সোঁদা গন্ধ। এক বন্ধুর প্রশ্ন শুনে নির্বাক হয়ে গেলাম: আপনারা তো সব দেখেছেন, আপনাদের কী হবে? কীভাবে ভুলব আহত-নিহত-যন্ত্রণার্ত মানুষের মুখ? ভুলে যাওয়াই কি আমাদের দুঃসহ স্মৃতির নিরুপায় উপায়? ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক। farukwasif@yahoo.com
--------
পরাগকে জীবিত উদ্ধারই ছিল উদ্দেশ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পরাগ মণ্ডলকে জীবিত অবস্থায় তার মা-বাবার কাছে ফেরত পাঠানো। এ জন্য সন্ত্রাসীরা যে শর্ত দিয়েছে, তা মানা হয়েছে। তবে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার কোনো বস্তুনিষ্ঠ খবর আমাদের কাছে নেই। গতকাল বুধবার নিজ কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরাগের অপহূত হওয়াকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত মঙ্গলবার যে মন্তব্য করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরাগকে অপহরণের ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন দেশে ঘটার কথা নয়। সে জন্য একে বিচ্ছিন্ন বলা হয়েছে। রাজধানী ও সারা দেশে পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের চোরাগোপ্তা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্য দলের লোকজনও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রক্ষায় যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তাণ্ডব চালাচ্ছে, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় দমন করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা হলেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায়নি কেন, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে তারা চোরাগোপ্তা হামলা করছে। পুলিশ আক্রান্ত হলেও কোথাও গুলির ঘটনা ঘটেনি। সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানো হয়েছে।
--------
উপকূলে দেড় হাজার কিমি বাঁধ সংস্কারে অনিশ্চয়তা
প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ বাঁধ গত পাঁচ বছরেও মেরামত হয়নি। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জমিতে লোনা পানি ঢুকছে। এতে জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে এ অঞ্চলের কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হলে এসব বাঁধ বিলীন হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। পাউবো বরিশালের আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের সিডরে বরিশালের ছয় জেলার প্রায় ১৮০ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ এবং এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিডরের পর এসব বাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের জন্য ৪২৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প-প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বিশ্বব্যাংক ওই প্রকল্পের অর্থ কাটছাঁট করে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ১১২ কোটি টাকা সহায়তা দিতে সমঞ্চত হয়। কিন্তু এই অর্থ চাহিদার তুলনায় নিতান্ত কম হওয়ায় তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের এক-তৃতীয়াংশও মেরামত সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। সীমিত এই অর্থ দিয়ে তিন বছর মেয়াদে এসব বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হলেও গত মে মাসে মাঝপথে দাতা সংস্থা সেই অর্থ সহায়তা স্থগিত করে। এতে প্রকল্পের কাজ থেমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাকি বাঁধ মেরামত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অতিমাত্রার লবণাক্ততার কারণে (১২ দশমিক ১ থেকে ১৬ ডিএস/এমের ওপরে) গত পাঁচ বছরে বরগুনায় ১৭ হাজার ৪৪০ হেক্টর, পটুয়াখালীতে ৩৬ হাজার ৩৯০, ভোলায় ১২ হাজার ৭৭০ ও ঝালকাঠি জেলায় প্রায় এক হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে গেছে। এতে দক্ষিণের শস্যভান্ডারখ্যাত এই চার জেলায় ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৬০০ হেক্টর। ফলে তিন লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন (হেক্টরপ্রতি পাঁচ মেট্রিক টন হিসাবে) ফসল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পানিতে লবণাক্ততার সহনীয় মাত্রা হচ্ছে শূন্য দশমিক ৭৫ ডিএস/এম। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোর ৩৫ শতাংশে দুই মাত্রার কম, ছয় শতাংশ নদীর পানিতে দুই থেকে পাঁচ মাত্রার মধ্যে এবং ৫৯ শতাংশ নদীর পানিতে পাঁচ মাত্রার বেশি লবণ থাকে। মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে সাম্প্রতিক সময়ে পানির লবণাক্ততা পরিমাপ করে যে তথ্য আমরা পেয়েছি, তা খুবই ভয়াবহ। ব্রহ্মপুত্র, গড়াই ও মধুমতী নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এসব লবণাক্ত পানি চলে যাচ্ছে যশোর, মাগুরা ও নড়াইলসংলগ্ন নদীগুলোয়। ওই অঞ্চলের কৃষকেরা না জেনে এ পানি সেচকাজে ব্যবহার করায় ওই সব এলাকার মাটিতেও লবণক্ততার প্রকোপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা যে হারে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যাচ্ছে। বরগুনা সদর উপজেলার ছোট বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক আনছার মিয়া বলেন, গত বছর ৮০ শতক জমিতে আমন ধান আবাদ করতে ১৭ হাজার ৩০০ টাকা খরচা হয়। ধান পাইছি মাত্র নয় মণ। নুনের কারণে ধান অয় না। ভাঙা বাঁধ দিয়া জোয়ারে পানি ঢুইক্কা বাড়িঘর তলাইয়্যা যায়। পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ২২টি পোল্ডারের মধ্যে ১২টির আওতায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি পোল্ডারের সেসব বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাকি ছয়টি পোল্ডারের দরপত্র আহ্বান করা হলেও দাতা সংস্থা সেই দরপত্র-প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছে। বরগুনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দীন আহমেঞ্চদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো অর্থাভাবে সংস্কার করা যাচ্ছে না। বড় ধরনের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হলে তা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এসব বাঁধ মোটেই উপযোগী নয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক খান সিরাজুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধের অভাবে লবণাক্ততা বেড়ে বিভাগের চার জেলায় বিপুল আয়তনের জমি বছরের সাত মাস পতিত থাকে। এ জন্য এই অঞ্চলের ৫৪৩টি সেচ-খাল খনন করে মিঠা পানির আধার বাড়ানোর পাশাপাশি দুই হাজার ২৪৩ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত করা দরকার।
--------
আন্তর্জাতিক সংবাদ
কেলেঙ্কারির কাদায় মার্কিন জেনারেলরা
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন জেনারেলদের অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন, দায়িত্বে অবহেলা, কাজে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে নাকাল। ঘুরিয়ে বলা যায়, মার্কিন জেনারেলরা এখন কেলেঙ্কারির কাদায় আটকে কঠিন এক দুঃসময় পার করছেন। এমন এক সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা ঘোষণা করেছেন, অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সেনাবাহিনীর আরেকজন জেনারেলের পদাবনতি ঘটানো হচ্ছে। প্যানেট্টা এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করছেন। সেখানে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করবেন। রয়টার্স বলছে, প্যানেট্টা আজ বুধবার সাংবাদিকদের জানান, করদাতাদের অর্থ অপচয় করে প্রমোদভ্রমণ করার দায়ে একজন চার-তারকা জেনারেলের পদাবনতি হচ্ছে। অপচয় করা অর্থ ওই জেনারেলের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেন প্যানেট্টা। আফ্রিকায় নিয়োজিত মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান অধিনায়ক জেনারেল উইলিয়াম ওয়ার্ডের পদাবনতি ঘটিয়ে তাঁকে তিন-তারকা জেনারেল করা হচ্ছে। পেন্টগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত দল জানিয়েছে, ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিমানে বারমুডায় গিয়ে তেল ভরার অজুহাতে স্ত্রীকে নিয়ে রাত কাটানোসহ বিভিন্ন কাজে করদাতাদের অর্থ অপচয়ের সত্যতা মিলেছে। অবৈধ ভ্রমণ, সামরিক বিমানের অপব্যবহার এবং আওতার বাইরে জনবল ব্যবহারের জন্য পেন্টাগন ওয়ার্ডকে ৮২ হাজার ডলার জরিমানা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ওয়ার্ডকে তিন-তারকা জেনারেলে পদাবনতি করা হলেও তিনি অবসর জীবনে প্রতিবছর তিন লাখ ডলারের স্থলে দুই লাখ ডলার পেনশন পাবেন। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দুজন শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে অবৈধ যৌন সম্পর্ক রাখার অভিযোগ ওঠে। নিজের জীবনীকার পলা ব্রডওয়েলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্বন্ধের জেরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালকের পদ থেকে গত শুক্রবার সরে দাঁড়ান ডেভিড পেট্রাউস। এর আগে তিনি আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন বাহিনীর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সত্ ও বীর হিসেবে তাঁর খ্যাতি আছে পশ্চিমা জগতে। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বাহিনীর প্রধান জেনারেল জন অ্যালেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয় গত রোববার। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই অ্যালেনের বাসায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে, অ্যালেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। পেট্রাউসকে ঘিরে যে গল্প তৈরি হয়েছিল, এবার এর ডালপালা ছড়ায়। দুজন জেনারেল, একজন অভিজাত নারী, তাঁর প্রতিপক্ষ এবং যমজ বোনকে ঘিরে এক জটিল ও রহস্যময় গল্পের সৃষ্টি হয়। আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের প্রধান জেনারেল জন অ্যালেনকে ইউরোপে অবস্থান করা মার্কিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগের সব কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। অপেক্ষা ছিল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষণার। কিন্তু অ্যালেনের এবং ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা শহরের অভিজাত নারী জিল কেলির মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া অনেক ই-মেইল প্রকাশিত হলে ওবামা অ্যালেনের পদোন্নতি স্থগিত করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ই-মেইলগুলো খুব গুরুতর না হলেও বেশ প্রণয় চপলতায় ভরা। অবশ্য ৫৮ বছর বয়সী অ্যালেন দাবি করেছেন, তিনি অন্যায় কিছু করেননি। সংকটাপন্ন চাকরি ঠিক রাখতে এ কাজ করেছেন। ৩৭ বছর বয়সী কেলি সামরিক বাহিনীর কোনো পদে কর্মরত না থাকলেও ফ্লোরিডার সেনাসদরের বিভিন্ন ভোজে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। প্যানেট্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এখনো রহস্যঘেরা কাহিনির কেন্দ্রে চলে আসেন কেলি। তাঁর অন্যতম পরিচয় হলো, তিনি পেট্রাউসের পারিবারিক বন্ধু। অথচ পেট্রাউসের পতনের জন্যও দায় তাঁর। কেলি অভিযোগ করেন, পেট্রাউসের একসময়ের প্রণয়ী এবং তাঁর জীবনীকার পলা ব্রডওয়েল বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নিপীড়নমূলক ই-মেইল পাঠাচ্ছেনএ সূত্রে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। বের হয়ে আসে অজানা তথ্য। ব্রডওয়েলের সঙ্গে প্রেম যখন ফিকে হয়ে আসছে, সে সময়ই পেট্রাউস কেলির দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেন। বিষয়টি ব্রডওয়েলের দৃষ্টি এড়ায়নি। জলের মতোই সব পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁর কাছে। ঈর্ষা বাড়তে থাকে তাঁর। চার মাস আগে পেট্রাউসের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর কেলির প্রতি তাঁর ঈর্ষা তুঙ্গে ওঠে। এ কারণে তিনি মাঝেমধ্যে কেলিকে আজেবাজে ভাষায় ই-মেইল পাঠাতেন। এফবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে পেট্রাউসের সঙ্গে ব্রডওয়েলের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশিত হয়। ওবামা পেট্রাউসকে ফোন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। পেট্রাউসও বিষয়টি স্বীকার করে গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন। কিন্তু, কেলির ই-মেইল পরীক্ষা করতে গিয়ে এফবিআই কেলির সঙ্গে অ্যালেনের সম্পর্ক বিষয়ে অবহিত হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অ্যালেন ও কেলির সম্পর্কটি অবৈধ, কারণ দুজনই বিবাহিত। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জিল কেলি নামের এক নারীর সঙ্গে জেনারেল অ্যালেনের যোগাযোগের ২০ থেকে ৩০ হাজার পৃষ্ঠা নথি খুঁজে পেয়েছে এফবিআই। এর মধ্যে বেশির ভাগই ই-মেইল বার্তা। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এসব বার্তা চালাচালি করেন তাঁরা। আরেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন জেনারেল বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, অ্যালেন ও কেলির ওই সব বার্তা কোনো যৌন বা কামুক সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে না। তবে প্রিয়া ও প্রিয়তম শব্দের মতো কিছু শব্দের ব্যবহার আছে, যেগুলো সাধারণত বিশেষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অ্যালেন ও কেলির কথোপকথনে মন্দ কিছু নেই, তবে দায়িত্ব পালনে সচেতন কোনো ব্যক্তির কাছে মনে হতে পারে, এ ধরনের শব্দ ব্যবহার অপেশাদারমূলক। গতকাল মঙ্গলবার পেট্রাউস-কেলি-অ্যালেনের কাহিনি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন জানাজানি হয় যে পেট্রাউস এবং অ্যালেন দুজনই কেলির যমজ বোন নাটালি খাওয়ামের জন্য আদালতকে চিঠি দিয়েছেন। খাওয়ামের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর ২০১১ সালে একটি মার্কিন আদালত খাওয়ামকে তাঁর তিন বছর বয়সী সন্তানের অভিভাবকত্ব দিতে রাজি হননি। আদালত তাঁর রায়ে জানান, পরিবার, কর্মচারী ও পরিচিত লোকদের জন্য যে সততা ও নিষ্ঠা থাকা দরকার, তার প্রতি খাওয়ামের কোনো শ্রদ্ধা বা উপলব্ধি নেই। রায়ের আগে খাওয়ামকে সন্তানের অভিভাবকত্ব দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন পেট্রাউস ও অ্যালেন। তবে খাওয়ামের সঙ্গে জেনারেলদের সম্পর্ক কী, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। পেট্রাউস ও তাঁর স্ত্রী হলির দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধু জিল কেলি। পেট্রাউস ২০০৮-১০ সালে টাম্পার মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রধান ছিলেন। সে সময় ঘাঁটির সেনা সদস্যদের পরিবারগুলোর সামাজিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতেন কেলি। কেলি তাঁর বাসায় পেট্রাউসের সম্মানে এক ভোজের আয়োজন করলে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কেলিকেও বিভিন্ন ভোজে আমন্ত্রণ জানান পেট্রাউস। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে এমন ভোজ খুব নিয়মিত ঘটনা। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এসব ভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এঁরা সেনাবাহিনীকে চাঁদাসহ বিভিন্ন নৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। একসময় কেলিকে সেনাবাহিনীর অবৈতনিক দূত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ছাড়ার কয়েক দিন আগে পেট্রাউস কেলি ও তাঁর স্বামীকে পেন্টাগনের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃতও করেন। তবে এখন পর্যন্ত কেলির সঙ্গে পেট্রাউসের কোনো অবৈধ সম্বন্ধের কথা জানা যায়নি। এসব ঘটনা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেলদের ওপর নজরদারি চলছে। কবে থেকে এসব শুরু হয়েছে, তা জানা না গেলেও, সামনে যে নতুন নতুন বিস্ময় অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য। এসব ঘটনা সেনাবাহিনীর জন্য কলঙ্ক না হলেও, সুসংবাদ নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি জানান, পেট্রাউসের ঘটনায় খুবই অবাক হয়েছেন ওবামা এবং তিনি এসবকে মোটেই স্বাগত জানাবেন না। মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পুরোনো। তবে অর্থ তছরুপের মতো কেলেঙ্কারির জানাজানি এবারই প্রথম। যত তাড়াতাড়ি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, ততই মঙ্গল।
--------
শি জিনপিং চীনের নতুন নেতা
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শি জিনপিংয়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তিনিই দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল বুধবার দলের ১৮তম সম্মেলন শেষ হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি আজ দলের পলিটব্যুরো, পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি (পিবিএসসি) ও দলের সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করে। শি জিনপিংয়ের উপপ্রধান হিসেবে লি কেকিয়াংকে নির্বাচিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। দলের উপপ্রধান হিসেবে তিনি হবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী। শি ও লি আগামী মার্চে তাঁদের দায়িত্ব নেবেন। চীনের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মূল কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের প্রধানও নির্বাচিত হয়েছেন শি জিনপিং। ৫৯ বছর বয়সী শি সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারের সদস্য। তাঁর বাবা শি ঝোংজুন একজন বিপ্লবী নেতা। ১৯৭৬ সালে চীনের অবিসংবাদিত বিপ্লবী নেতা মা-ও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর অর্থনৈতিক সংস্কারের একজন অন্যতম সমর্থক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হলে সিপিসির সম্মেলন শুরু হয়। গতকাল সম্মেলনের শেষ দিনে অন্তত ২৩ হাজার দলীয় প্রতিনিধি গোপন ব্যালটে ভোট দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন। ৩৭০ সদস্যের এই কেন্দ্রীয় কমিটিই দলের পলিটব্যুরো ও পিবিএসসি এবং দলীয়প্রধান নির্বাচন করল।
--------
রাজনীতির মাঠে কাদির খান
পাকিস্তানের রাজনীতির মাঠে নামছেন দেশটির পারমাণবিক বোমার জনক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান। ইতিমধ্যে দলের নাম ঘোষণা করেছেন তিনি। শিগগিরই তিনি দেশব্যাপী প্রচারণায় নামছেন। তাঁর দলের লক্ষ্য, তরুণ ভোটারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা, ভোটের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আনা। এমন এক সময়ে কাদির খান রাজনীতিতে আসছেন, যখন দেশটিতে এক অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষকে চিঠি না দেওয়ায় ইউসুফ রাজা গিলানিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজের বিরুদ্ধেও একই পথ অনুসরণ করছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। সব মিলিয়ে অস্থির এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কাদির খানের নতুন রাজনৈতিক দলটির নাম তেহরিক-ই তাহাফুজ পাকিস্তান (টিটিপি)। গত জুলাই মাসে দলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কাদির খান গত সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কাকে ভোট দেওয়া যায়, আর কাকে ভোট দেওয়া যায় না, এ বিষয়ে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে চায় টিটিপি। আমি আগামী নির্বাচনে সৎ ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে এবং দেশকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে দাঁড়াতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাব। প্রতিশ্রুতি পূরণে প্র্রথাগত দলগুলোর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে কাদির খান জানান, তিনি দলের প্রচারণার সময় পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-নওয়াজ) মতো প্রথাগত দলগুলোকে ভোট না দিতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাবেন। কাদির খান পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও নিউজ পাকিস্তান।
--------
১১৬-তে পা দিলেন বিশ্বের সবচেয়েবয়স্ক ব্যক্তি
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মনরো শহরের বাসিন্দা বেসে কুপার। তিনি গত রোববার ১১৬তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। রেকর্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মাত্র আটজন ১১৬ বছরে পা দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কুপার একজন। তিনি বর্তমানে মোনরোর একটি নার্সিং হোমে স্থায়ীভাবে বাস করছেন। কুপারকে গত বছরই বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির স্বীকৃতি দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ। কুপারের জন্ম ১৮৯৬ সালে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সুলিভানে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মনরোতে চলে যান। পরে সেখানে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯২৪ সালে লুথার নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ১২ নাতি-নাতনি ও বহু প্রপৌত্র-প্রপোত্রী রয়েছে। এবিসি নিউজ ।
--------
";
BANGLA BARTA
P.O. Box 3140, Eastlakes NSW 2018
Email: bangla_barta@yahoo.com.au
Chief Editor: Mohammed Aslam Molla, Editor: Pranab Kumar Das, Sub Editor: Faysal Ahamed
Publishers: Mohammed Aslam Molla , Pranab Kumar Das and Faysal Ahamed